Skip to main content

বাংলার ভৌতিক লোককথা (দ্বিতীয়পর্ব )

       বাংলার ভৌতিক লোককথা (দ্বিতীয়পর্ব )
বাংলার ভৌতিক লোককথার  এই পর্বে আমরা  লোকসাহিত্যে বর্ণিত আরও কিছু ভুতুড়ে চরিত্র সম্পর্কে আলোচনা করব-                                                    জিন: জিন জাতিতে হলো মুসলিম। এরা এক অশরীরী  ও শয়তান। এদের কোন রোগ নেই এরা অন্ধকারে      সবার অন্তরালে বাস করে।
            আরবি জিন শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো অদৃশ্য বা গুপ্ত। এরা বিভিন্ন প্রজাতির হয়ে থাকে যেমন জিন-শয়তান, এরা শয়তানের বংশধর যারা ভগবানের আদেশ অমান্য করে খারাপ পথ বেছে নেয় এবং মানুষের ক্ষতি করার জন্য বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে। এরা বিভিন্ন রূপও ধারণ করতে পারে।      
               দ্বিতীয় হল ক্কারিন, এরা মানুষের মনে পাপের সঞ্চার ঘটায়। এরপর রয়েছে খাসিব, এরা নোংরা স্থানে থাকে এবং মানুষের ক্ষতি করার চেষ্টা করে। 
          লোককথা অনুসারে, কিছু ভালো জিনও রয়েছে। যারা মানুষের সাহায্য করে থাকে কিন্তু খারাপ জিন অনেক বেশি ক্ষতি করা হয়। এরা খুব শক্তিশালী হয়ে থাকে এবং সহজেই মানুষকে বশ করে নিতে পারে। এদের কোন রুপ বা আকার থাকেনা, কিছু অদ্ভুত শব্দের মাধ্যমে এরা  মানুষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে।
ভূতুড়ে আলো: রাতের অন্ধকারে খোলা স্থানে ও জলাভূমির কাছাকাছি কোন স্থানে এই ধরনের আলো দেখতে পাওয়া যায়। মাটি থেকে একটু উপরে এই আলোগুলো ভাসমান অবস্থায় থাকে। এই আলোগুলি  নিজেদের আকার রং বদলাতে পারে। এরা কখনো ধীরে আবার কখনো খুব দ্রুত গতিতে যাত্রা করে।যে মানুষেরা এই আলোগুলির পিছু নেয়  তারা আর কখনো ফিরে আসে না।
             সুন্দরবন ও রাজস্থানে এই আলো প্রায়ই লক্ষ্য করা যায়, এই আলোর জন্যে বহু জেলেরা তাদের প্রাণ হারিয়েছে।
জুজু: এটি  হল স্ত্রীভূত।জুজু আসলে বৃদ্ধা  পিশাচ। লৌকিক কাহিনী অনুসারে, এরা ছোট ছোট বাচ্চাদের ধরে নিয়ে যায়।
বেতাল: হিন্দু লোককাহিনী মতে, বেতাল একটি অতি প্রাকৃতিক শক্তি সম্পন্ন প্রাণী। এটি  আত্মা বিশেষ  যার কোন মৃত্যু নেই, সে যে কারোর শরীরে ভর করতে পারে। 
      বেতাল শ্মশান ঘাটে ঘুরে বেড়ায় এবং মৃত মানুষের শরীরে নিজেদের বাসা তৈরি করে। এরা সাধারণত গাছে উল্টো ঝুলে থাকে। রাজা বিক্রমাদিত্যের গল্পেও বেতাল চরিত্রের উল্লেখ পাওয়া যায়।
কানাভুলো: এই শ্রেণীর ভূতেরা পথিকের গন্তব্য ভুলিয়ে দেয় এবং কোন নির্জন, অচেনা এলাকায় তাদের নিয়ে আসে। এদের জন্য কখনো কখনো মানুষের একই পথ দিয়ে বারবার যাত্রা করে ও ঘুরপাঁক খেতে থাকে। এরা তাদের শিকারকে পছন্দমত স্থানে নিয়ে গিয়ে আক্রমণ করে। এই ভুতেরা নির্জন এলাকায় মানুষকে আক্রমন করে। এই ধরনের ভূতেদের  রাতে গ্রামের মাঠের ধারে এবং পথের মাঝে দেখতে পাওয়া যায়। 
ঝেয়ো পেত্নী: এই পেত্নীরা নিজেদের ঝাউগাছ লুকিয়ে রাখে। এরা পথযাত্রীদের নানাভাবে অত্যাচারিত    করে।
  ভরসন্ধ্যাবেলায় কোন পথিক একা একা ঝাউবন বেরোবার সময় তাদের এই পেত্নীরা গাছের সবচাইতে   উচু ডালে চড়িয়ে দেয়। 
ডাকিনী: ডাইনী বুড়িদের একশ্রেণীর মধ্যে হলে ডাকিনী। এরা পুকুর ধারে কোন নারকেল বা তাল গাছে বাস করে। ডাকিনী পাতিহাঁস খেতে খুব পছন্দ করে। এদের অন্যতম একটি অভ্যাস হলো, এরা দিনে দুপুরে মেয়েদের রুপ নিয়ে ঘুরে বেড়ায়।
মেছোভুত: মেছো শব্দটি বাংলা মাছ শব্দ থেকে এসেছে। মেছো ভূতেরা মাছ খেতে খুব পছন্দ করে, এরা সাধারণত গ্রামের কোন পুকুর পাড়ে যেখানে বেশি পাওয়া যায় সেসব স্থানে বাস করে।
                         মেছোভুত নির্জন স্থানে মাছ বহনকারী ব্যক্তিদের আক্রমণ করে, মাছ ছিনিয়ে নেয় আবার কখনো কখনো তাদের পিছু নিয়ে ফেলে। এরা জেলেদের নৌকা থেকে মাছ চুরি করে খেয়ে নেয়।
চোরাচুন্নি: প্রাচীন কাহিনী অনুসারে, চোরাচুন্নি হলো এমন কোনো অতৃপ্ত  আত্মা যারা  জীবিত অবস্থায় চুরির কাজে নিযুক্ত ছিল। মৃত্যুর পর কোন চোরেরা মুক্তি না পেলে তারাই চোরাচুন্নি তে পরিণত হয়।
                           চোরাচুন্নি অত্যন্ত দুষ্টু প্রকৃতির হয় এরা মানুষের অনিষ্ট করতে থাকে। কথিত আছে, পূর্ণিমা রাতে এরা মানুষের বাড়িতে ঢুকে ক্ষতি সাধন করে। এদের হাত থেকে বাঁচতে গঙ্গাজল এর ব্যবস্থা করা হয় বাড়িতে।
কিচনি: কিচনি হলো জলের এক অলৌকিক জীব। এরা বদ্ধ পুকুর এবং জলাশয় বসবাস করে। যে স্থানের জল বেশি গভীর হয় সেখানে কিচনি থাকার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। লোককথায় জানা যায়, কিচনির অনেক লম্বা কালো ঘন চুল থাকে।
বেঘোভূত: লোককাহিনী অনুসারে বিশ্বাস করা হয়ে থাকে, যেসব মানুষের মৃত্যু বাঘের আক্রমণের কারণে হয়েছে তাদের অতৃপ্ত আত্মারাই রুপ নেয় বেঘোভূতের।
             বেঘোভূতেরা বনে আগত মধু সংগ্রহকারীদের পথ ভুলিয়ে বাঘের কাছাকাছি নিয়ে যায় এবং তাদের ভয় দেখানোর জন্য কখনো কখনো বাঘের স্বরে ডেকে ওঠে। সাধারণত সুন্দরবন এলাকায় এ ধরনের ভূতের উপদ্রব বেশি প্রচলিত।


   
      

Comments

Popular posts from this blog

বাংলার ভৌতিক লোককথা ( প্রথম পর্ব)

         বাংলার ভৌতিক লোককথা (  প্রথম পর্ব)                 বাংলার লোকসাহিত্য সম্পর্কে আলোচনা করবার সময় প্রথমেই যা নজরে আসে তাহল বাংলার ভৌতিক লোককথা। এই ভৌতিক লোককথার গুরুত্বপূর্ণ অংশটি হলো ভুতুড়ে চরিত্র। ভূত হল এক ধরনের অতৃপ্ত আত্মা। প্রাচীন লোককথা থেকে জানা যায়, মৃত্যুর পর যে সমস্ত মানুষের আত্মা শান্তি খুঁজে পাইনি পৃথিবীতেই ঘুরে বেড়িয়েছে তারাই হল ভূত।শুধু তাই নয় লোকসাহিত্য এটাও বলা হয়েছে, জীবজন্তুর আত্মাও মৃত্যুর পরে মুক্তি না পেলে অশরিরীয় শক্তিতে পরিণত হয়।বাংলার ভৌতিক লোককথায় ভুত, দৈত্য- দানব এই চরিত্রগুলি খুবই স্পষ্ট ভাবে ফুটে উঠেছে।শুধুমাত্র প্রাচীনকালে নয় বর্তমান সময়কালের রূপকথার গল্পেও এই চরিত্রগুলির বিবরণ পাওয়া যায়।                      ভারতীয় লোকসাহিত্যে অনেক প্রকার ভুতূরে চরিত্রের প্রকাশ পাওয়া যায়। সেই সম্পর্কে নিম্নে কিছু ধারণা প্রদান করা হলো- পেত্নি: প্রাচীন  ভৌতিক লোককথার একটি জনপ্রিয় চরিত্র হল পেত্নি । এরা হল নারীদের অ...

পালং শাকের রুটি প্রস্তুতি

                    পালং শাকের রুটি  প্রস্তুতি উপকরণ: আটা- 250 গ্রাম, পালংশাক- 125 গ্রাম, নুন প্রয়োজনমতো, হলুদ, লঙ্কাগুঁড়ো এবং জিড়েগুঁড়ো প্রয়োজনমতো, জল- 1 কাপ। পদ্ধতি: প্রথমে পালংশাক বেছে ভালো করে ধুয়ে নিয়ে তারপর, ওই পালংশাক কুচিয়ে নিতে হবে। গ্যাস ওভেনে কড়াই চাপিয়ে তাতে কুচনো পালংশাক, অল্প নুন, জল দিয়ে ঢাকা দিয়ে সেদ্ধ করে তা নামিয়ে নিতে হবে। এবার সেদ্ধ পালংশাক চটকে একে একে তাতে  স্বাদ অনুসারে লঙ্কাগুঁড়ো, জিড়ে গুঁড়ো, হলুদ, নুন ও জল দিয়ে আটার সাথে ভাল করে মেখে নিতে হবে। মাখা আটার ছোট ছোট লেচি করে বেলনচাকিতে বেলে নিয়ে তারপর কড়াইয়ে ভালো করে সেকে নিলেই পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে পালং শাকের রুটি।                                                                                ...